শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজামণ্ডপগুলোতে প্রায় শেষ হয়েছে প্রস্তুতি। দেবী দুর্গার আরাধনা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামী কয়েক দিন উৎসব উদ্যাপন করবেন ভক্তরা।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা চলে। তবে এ বছরের তিথির বিশেষ বিন্যাসের কারণে পূজার আয়োজন ছয় দিন ধরে চলবে। নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর কথা রয়েছে পৃথক বাণীতে। উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও পূজামণ্ডপে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি।
মূল পূজার আগে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেবীর বোধন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দক্ষিণায়নে নিদ্রিত দেবী দুর্গাকে জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে এ আচার পালন করা হয়। এর আগে গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবীপক্ষ।
হিন্দু পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, রাজা সুরথ বসন্তকালে দেবী দুর্গার পূজা শুরু করেছিলেন, যা বাসন্তীপূজা নামে পরিচিত। অন্যদিকে, রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার আগে শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালে দেবীর আরাধনা করেছিলেন বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। শরৎকালের এই পূজাই শারদীয় দুর্গোৎসব হিসেবে পরিচিত। ধর্মীয় পরম্পরায় একে অকালবোধনও বলা হয়।
এ বছরের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আজ মহাষষ্ঠীতে দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকতা। সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হবে। চণ্ডীপাঠ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে উঠবে মণ্ডপ ও মন্দির প্রাঙ্গণ। এরপর মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, কুমারীপূজা ও মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের আয়োজন।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুসারে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত ব্যাখ্যায় ঘোড়ায় আগমনকে ফসল ও শস্যের ক্ষতির আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। অন্যদিকে, নৌকায় গমনকে শস্যবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫টি। সে হিসাবে এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৬টি। তবে রাজধানী ঢাকায় মণ্ডপের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এ বছর ঢাকা মহানগরে ২৫৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে গত বছর ছিল ২৬১টি।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশের মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার, এসআরবি ও বিজিবির সদস্যদের দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকেরাও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করবেন।