নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই শিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া দুই শিক্ষক হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম সাইফুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার। গত রোববার পৃথক দুটি আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব।
বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের নৈতিক স্খলন এবং তাদের অশালীন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন বিধি অনুযায়ী তারা খোরপোশ ভাতা পাবেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে ওই দুই শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে তদন্ত করে তাদের কর্মস্থল ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অন্য দুটি বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। সাইফুল ইসলামকে বালুচরা সমাজ কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জেসমিন আক্তারকে ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তবে কাগজপত্রে তাদের মূল কর্মস্থল ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই রয়েছে।
সম্প্রতি আগস্টের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা করা হয়। ওই মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীব বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এবং এতে প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও চলমান। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।