চীন থেকে আধুনিক মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান জে-১০সিই কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে একই শ্রেণির ভারতীয় তেজাস ও মার্কিন এফ-১৬ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কেন চীনের জে-১০সিই বেছে নিচ্ছে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
সামরিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভারতের তেজাস একটি লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট বা হালকা যুদ্ধবিমান। বিপরীতে জে-১০সিই মাঝারি ওজনের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। আকার ও নকশার কারণে জে-১০সিই তুলনামূলক বেশি অস্ত্র ও জ্বালানি বহন করতে পারে।
আকাশযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ বা দৃশ্যসীমার বাইরে থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা। জে-১০সিইতে ব্যবহৃত চীনা পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২০০ কিলোমিটারের বেশি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এই সক্ষমতা তেজাসের ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে এফ-১৬ বিশ্বের অন্যতম পরীক্ষিত যুদ্ধবিমান। তবে জে-১০সিইতে রয়েছে ডেল্টা-ক্যানার্ড নকশা, যা উচ্চ গতির আকাশযুদ্ধে দ্রুত গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের দীর্ঘ পাল্লা ও আধুনিক রাডার প্রযুক্তিকেও জে-১০সিইর অন্যতম শক্তিশালী দিক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
খরচ ও পরিচালনাগত বিষয়ও বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে চীনা প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে আসছে। ফলে নতুন এই বিমান যুক্ত হলে পাইলটদের রূপান্তর প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনাগত সক্ষমতা তৈরিতে তুলনামূলক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চীন থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমানসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সরকারের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক এবং তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, এমআরসিএ (জে-১০সিই) ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার ক্ষেত্রে সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জে-১০সিই নিয়ে আগ্রহের পেছনে সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা। তার দাবি, ওই সংঘাতে চীনা জে-১০ যুদ্ধবিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল। তবে যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জে-১০সিই কেনার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি হিসেবে নিশ্চিত হয়নি। প্রস্তাবটি অনুমোদনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কতটি বিমান কেনা হবে, মোট ব্যয় কত হবে এবং সরবরাহের সময়সূচি কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।