মডেলিং, অভিনয় ও সৃজনশীল শিল্পচর্চাকে সঙ্গী করে স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে চলেছেন ঢাকাভিত্তিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফ্লাভিয়া ইসলাম। আট বছরের অভিজ্ঞতা, নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাঁর লক্ষ্য এখন আন্তর্জাতিক মডেলিং অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করা এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা।
ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষিত ফ্লাভিয়ার রয়েছে ভারতীয় শিকড়। মডেলিং ও অভিনয়ের পাশাপাশি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, ডিজে পরিবেশনা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও আগ্রহ রয়েছে তাঁর। বহুমুখী প্রতিভা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একজন দক্ষ মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেতে চান তিনি। একই সঙ্গে অভিনয়শিল্পী হিসেবেও নিজের কাজের পরিধি বাড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।
মিডিয়া অঙ্গনে নিজের যাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন ফ্লাভিয়া। ২০২২ সালে ‘মিস ফটোজেনিক’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা পাঁচে জায়গা করে নেন তিনি। পরে ২০২৫ সালে অর্জন করেন ‘বেস্ট ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি পেশাগত পথচলায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

ছোটবেলা থেকেই বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ ছিল ফ্লাভিয়ার। বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা) থেকে নৃত্যশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। চিত্রকলায়ও রয়েছে তাঁর প্রশিক্ষণ ও সনদ। পাশাপাশি গ্রাফিক নকশাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল বিষয়ে আগ্রহ তাঁর বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় তুলে ধরে।
অভিনয়েও রয়েছে ফ্লাভিয়ার কাজের অভিজ্ঞতা। দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ক্রিমিনালস’-এ অভিনয় করেছেন তিনি। মডেলিংয়ের পাশাপাশি নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা আরও বিকশিত করতে চান এই তরুণী।
তবে তাঁর এই পথচলা সব সময় সহজ ছিল না। গত আট বছরে নানা বাধা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তবু লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াননি ফ্লাভিয়া। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিভার পাশাপাশি পরিশ্রম, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস সাফল্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ফ্লাভিয়া জানান, আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চান তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মডেলিং জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করাও তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
ফ্লাভিয়ার ভাষায়, ‘এতটাই পরিশ্রম করো, যেন একদিন কেউ তোমার প্রতিভাকে উপেক্ষা করতে না পারে।’ এই প্রত্যয়কে সঙ্গী করেই আট বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যেতে চান তিনি। তাঁর কাছে এই যাত্রা কেবল পরিচিতি অর্জনের নয়, বরং দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টা।