চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২০৩টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ পিয়াল মাহমুদ ওরফে পিয়াল সাদ্দাম (৩৪) নামে ছাত্রদলের এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ২৭টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাঁর মালিকানাধীন একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে চাপাতি, কুড়াল, ছুরিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার মিয়াপাড়া-ক্যানালপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিয়াল সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় একটি ডোবা পুকুরের উত্তর-পূর্ব কোণ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ২০৩টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে আলমডাঙ্গা থানার গোবিন্দপুর মাঠপাড়া গ্রামে তাঁর মালিকানাধীন গোডাউনে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিতে গোডাউনের একটি টেবিলের নিচ থেকে একটি লোহার চাপাতি, কাঠের বাটযুক্ত একটি দেশীয় লোহার কুড়াল, দুটি লোহার ছুরি, কাঠের বাটযুক্ত দুটি বড় ছোরা এবং একটি লোহার রড উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পিয়াল সাদ্দাম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি আলমডাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীও ছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি মামলা বিচারাধীন। অন্য একটি মামলায় চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাঁকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, পিয়াল সাদ্দামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় ২০৩টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।