সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসহযোগিতা, অসংবেদনশীল আচরণ, ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে জরুরি সভা করে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাব।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে প্রেস ক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে সভাপতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন আচরণের কথা তুলে ধরেন।
যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আকরামুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জেলপলাতক এক হত্যা মামলার আসামি কীভাবে ভূমি অফিসে মামলা পরিচালনা করছেন—এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। বিষয়টি জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং আগের একটি প্রতিবেদন নিয়েও তাকে শাসানোসহ চাকরি নিয়ে হুমকিসূচক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাভিশন ও বাসসের জেলা প্রতিনিধি এবং প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, একটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করার বিষয়ে তথ্য চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে সাংবাদিকদেরই ভর্ৎসনা করা হয়।
ডিবিসি নিউজের এম বেলাল হোসাইন বলেন, সংবাদসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসককে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সাংবাদিকদের বক্তব্য দেওয়া তার দায়িত্ব নয় বলে ফোন রেখে দেন। একই ধরনের আচরণের অভিযোগ করেছেন মাই টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফয়জুল হক বাবুসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক।
সভায় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জেলা প্রশাসকের এমন আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের উপহার দেওয়ার একটি অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ না জানানোর ঘটনাতেও ক্ষোভের কথা উঠে আসে। ওই ঘটনায় জেলা পরিষদ প্রশাসক, বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠান বর্জন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সাতক্ষীরা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন, মঞ্চে যথাযথভাবে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নেতৃত্বে তারা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, জেলার বিভিন্ন বিষয়ে সংবাদ করতে গিয়ে অতীতে কোনো জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে এমন অসহযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়নি। রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। তিনি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।