আলোচিত ইসলামি বক্তা ও ‘৩১৩ প্রোপার্টিজ’-এর চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহর বিরুদ্ধে যৌতুকের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তার পঞ্চম স্ত্রী মোসা. হুমায়রা জান্নাত যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলাটি করেছেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে মিসবাহর বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ৮ নম্বর আদালতে মামলাটি করা হয়। বর্তমানে মামলাটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে বিচারাধীন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম ইবরাহিম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নালিশি অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২০ সালের ৪ মে শরিয়াহ অনুযায়ী হাবিবুর রহমান মিসবাহর সঙ্গে হুমায়রা জান্নাতের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ‘আফরাদ মিসবাহ’ নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।
বাদীর অভিযোগ, বিয়ের সময় মিসবাহ তার আগের চারটি বিয়ের তথ্য গোপন করেন। পরে হুমায়রা জানতে পারেন, তাকে ছাড়াও মিসবাহ আরও কয়েকটি বিয়ে করেছেন। এসব বিয়ের কোনোটি কাবিননামা বা বিবাহ নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
হুমায়রা জান্নাতের দাবি, যৌতুকের বিষয় নিয়ে বিরোধের পর তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলে তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তিনি আদালতে নালিশি মামলা করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এবিএম ইবরাহিম খলিল সাংবাদিকদের বলেন, হুমায়রা জান্নাতের সঙ্গে মিসবাহর পরিচয় হয় তার ওয়াজ মাহফিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের সূত্র ধরে। পরে ফেসবুকে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তারা বিয়ে করেন। তাদের একটি সন্তান রয়েছে।
আইনজীবীর দাবি, মামলার আবেদনে মিসবাহর একাধিক বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, হুমায়রা জান্নাত তার পঞ্চম স্ত্রী এবং পরবর্তী সময়ে আরও বিয়ে করার তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগও মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলায় সমন জারির পর পরবর্তী শুনানিতে আসামি আদালতে হাজির হলে তার বক্তব্য জানা যাবে বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী।