সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ অঞ্চলের সব সমুদ্রসৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে সৈকত বন্ধের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। এর আগে দেশটির উপকূলীয় এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অভিযান চালানোর খবর প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাস আল-খাইমাহ পুলিশের সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে সৈকত বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এর আগের দিন শুক্রবার দেশটির সরকার সমুদ্রে একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অভিযান চালানোর কথা জানায়। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু করে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন শেষ হওয়া এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সুরক্ষাব্যবস্থা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত উম আল-কুওয়াইনের আশপাশের সৈকত ও উপকূলীয় অঞ্চল বন্ধ থাকবে। এ সময় জেলে ও অন্যান্য সমুদ্র ব্যবহারকারীদের সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, শারজাহ সরকারের গণমাধ্যম বিভাগ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আল হামরিয়া সৈকতও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সৈকতটি উম আল-কুওয়াইনের সীমান্তসংলগ্ন উত্তর উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত।
রাস আল-খাইমাহ মনোরম সমুদ্রসৈকত ও বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্রের জন্য পরিচিত। অঞ্চলটির আল মারজান দ্বীপে উইন রিসোর্টসের একটি অবকাশকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম বাণিজ্যিক জুয়া পরিচালনার লাইসেন্স পায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে রিসোর্টটি চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
অন্যদিকে, শারজাহ, আজমান ও উম আল-কুওয়াইনের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা বাতাসে তীব্র ও অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ ঘটনায় জনস্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি শনাক্ত হয়নি।