দীর্ঘ ১০ মাস নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধী নেতা ও ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। রোববার (২৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশে ফেরার খবর জানান তিনি। সেখানে মাচাদো লেখেন, ‘আমি এখানে, আপনাদের সঙ্গে।’
মাচাদোর প্রত্যাবর্তনে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং ক্ষমতার পালাবদলে তাঁর ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মাচাদোর দল জানিয়েছে, গত তিন মাসে দেশে ফেরার জন্য সাতবার চেষ্টা করেও সফল হননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্র, পানামা ও কুরাসাও থেকে ফেরার এসব প্রচেষ্টা ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ বাধাগ্রস্ত করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী দল।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য গোপনে ভেনেজুয়েলা ছাড়েন মাচাদো। এর আগে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের আশঙ্কায় তাঁকে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। দেশের বাইরে থেকেও বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
মাচাদোর দেশত্যাগের কয়েক সপ্তাহ পর, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হন। এরপর তাঁর সাবেক উপপ্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে রদ্রিগেজের সরকার দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
মাদুরোকে আটক করার মার্কিন অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন মাচাদো। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করায় দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মাচাদোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রায় এক বছর পর দেশে ফিরে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আবারও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে মাচাদোর সামনে। তবে দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও নির্বাচন নিয়ে চলমান আলোচনায় তাঁর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।