Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / চট্টগ্রাম বিভাগ / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / দীপুর চিৎকার, ‘এখানে অনেক লোক মারা গেছে, সবাই দ্রুত আসেন’ - Chief TV

দীপুর চিৎকার, ‘এখানে অনেক লোক মারা গেছে, সবাই দ্রুত আসেন’ - Chief TV

2026-08-22  ডেস্ক রিপোর্ট  38 views
দীপুর চিৎকার, ‘এখানে অনেক লোক মারা গেছে, সবাই দ্রুত আসেন’ - Chief TV

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে একের পর এক শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়ার ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া দীপু দাশ এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। ঘটনার দিন সহকর্মীদের উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে সহকর্মীদের মৃত্যুর দৃশ্য।

দীপু দাশের বয়স ৩২ বছর। তিনি ওই ইয়ার্ডে কাটারম্যানের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। গত ১৪ আগস্ট জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় দীপুও জাহাজভাঙা কারখানায় ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে গত সোমবার বাড়ি ফিরেছেন তিনি। তবে এখনো দুর্বলতা কাটেনি। মাত্র ৫০ মিটার দূরে থাকা ছোট্ট টিনশেডের ঘরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকছেন দীপু।

দুর্ঘটনার দিনের কথা বলতে গিয়ে দীপু জানান, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার দিকে চারজন কাটারম্যান ও তিনজন সহকারী জাহাজের ভেতরে কাজ করতে ঢোকেন। তারা কয়েকটি ভাগে কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানি বের করার জন্য সেখানে গেলে নাসির দাশ ও তার ভাই মনসুর পড়ে যান। তাদের উদ্ধারে এগিয়ে গিয়ে আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকেন।

দীপু বলেন, সহকর্মী সানি দাশকে পড়ে যেতে দেখে তার ওস্তাদ পলাশ দাশ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পলাশও পড়ে গেলে দীপু এগিয়ে যান। এ সময় নাকে তীব্র গন্ধ অনুভূত হলে তার মাথা ঝিমঝিম করতে শুরু করে। এরপর তিনি ওপরে উঠে চিৎকার করে সবাইকে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।

তার চিৎকার শুনে আশপাশের শ্রমিকরা ছুটে আসেন। দীপুও ঘটনাস্থল দেখাতে আবার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

দীপু জানান, সেদিন বেলা ২টার দিকে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে বাড়ি ফিরে আসেন। পরে জানতে পারেন তার প্রতিবেশী নাসির, মনসুর, সানি ও তার ওস্তাদ পলাশ মারা গেছেন। এরপর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘণ্টায় ৬০ টাকা মজুরিতে কাজ করা দীপু এখনো কাজে ফেরার মতো অবস্থায় নেই। তার ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় কারখানা কর্তৃপক্ষ বহন করলেও কোনো ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সহায়তা পাননি। এমনকি বকেয়া বেতনও দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পথ্য কেনার সামর্থ্যও তার নেই।

দীপুর স্ত্রী পূর্ণিমা দাশ জানান, স্বামীর চিকিৎসার পেছনে হাতে থাকা সব টাকা শেষ হয়ে গেছে। বাড়ি ফেরার পর থেকে কোনোভাবে সংসার চলছে। দুর্ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষের কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, ওই কারখানার আরেক শ্রমিক সুলতান আহাম্মদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্যাংকটি কাটার দায়িত্ব তারও হতে পারত। এর আগে একই জাহাজের অন্য একটি ট্যাংক কাটার সময় গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তিন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


Share: