Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / চট্টগ্রাম বিভাগ / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ - Chief TV

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ - Chief TV

2026-09-02  নিজস্ব প্রতিবেদক, চিফ টিভি:  196 views
চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ - Chief TV

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের ট্রাস্ট পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাৎ, ব্যাংক হিসাবের সিগনেটরি পরিবর্তন, নগদ অর্থের হিসাব গরমিল, ভুয়া ও অতিরিক্ত বিল-ভাউচার, চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. রবিউল হোসেনের মৃত্যুর পর ট্রাস্ট দলিলের বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের নথি তৈরি করা হয়। পরে হাসপাতালের ব্যাংক হিসাবের অনুমোদিত সিগনেটরি পরিবর্তনের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ সীমিত কয়েকজনের হাতে চলে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে ডা. রাজীব হোসেন, রিয়াজ হোসেনসহ হাসপাতালসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন বা যাচাইসাপেক্ষ। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, দরিদ্র রোগীদের কাছ থেকে নগদে আদায় করা বিপুল অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে জমা হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ৯ থেকে ১০ কোটি টাকা নগদে আদায় হলেও এর মধ্যে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার ব্যাংক জমা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ক্যাশ রেজিস্টার, ব্যাংক লেজার ও দৈনিক কালেকশন স্টেটমেন্ট পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া কয়েকজনের আয়কর নথিতে প্রদর্শিত আয় ও নগদ সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্যের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্টদের আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের মাধ্যমে সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।

চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকৃত মূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দামে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা দেখিয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকি ওই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে এলসি, ইনভয়েস, বিল অব এন্ট্রি, ব্যাংক লেনদেন ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন তথ্য যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালের উন্নয়নকাজ ও কেনাকাটায় প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে বেশি অর্থ দেখিয়ে বিল-ভাউচার তৈরি, অসম্পূর্ণ কাজের বিপরীতে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই তহবিল পুনর্বণ্টনের অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে প্রিন্টিং কাজ ও শিক্ষা কার্যক্রমে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুরোনো আর্থিক অনিয়মের বিষয়ও নতুন করে সামনে এসেছে। ২০০৮ সালে রোগীদের কাছ থেকে সংগৃহীত ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনায় অডিট ও তদন্ত কমিটি কয়েকজনকে দায়ী করেছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তবে ওই অর্থ পরবর্তীতে উদ্ধার হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

হাসপাতালের আইনি ব্যয় নিয়েও অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কয়েক লাখ টাকার লিগ্যাল ফি মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে প্রায় ৮০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। ট্রাস্টের অর্থ থেকে ব্যক্তিগত মামলার ব্যয় বহন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. রাজীব হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের আর্থিক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, ব্যাংক হিসাবের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন ও ভুয়া বিল-ভাউচারের অভিযোগে দুদকে অভিযোগ দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে তা কমিশনের তফসিলভুক্ত অপরাধের আওতায় পড়ে কি না যাচাই করা হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযোগকারীরা হাসপাতালের ব্যাংক হিসাব, অডিট রিপোর্ট, ক্যাশ কাউন্টারের হিসাব, ক্রয়সংক্রান্ত নথি, বিল-ভাউচার, সম্পদ বিবরণী ও অন্যান্য আর্থিক দলিল তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।


Share: