Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / অপরাধ / ধর্ষণের পর বিয়ে করে পালানো সেই ডিবি কর্মকর্তার দুই বছরের শাস্তি - Chief TV

ধর্ষণের পর বিয়ে করে পালানো সেই ডিবি কর্মকর্তার দুই বছরের শাস্তি - Chief TV

2026-09-06  ডেস্ক রিপোর্ট  28 views
ধর্ষণের পর বিয়ে করে পালানো সেই ডিবি কর্মকর্তার দুই বছরের শাস্তি - Chief TV

বিয়ের আশ্বাসে এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক ও একসঙ্গে বসবাস এবং পরে বিয়ে করেও স্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার খান মাহমুদুল হাসানকে দুই বছরের জন্য বেতনবৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় তাকে ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এ শাস্তি দেওয়া হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় মাহমুদুল হাসানকে দুই বছরের জন্য বেতনবৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে তিনি কোনো বকেয়া প্রাপ্য হবেন না এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালে জাকিয়া পারভীন নামে এক নারীর সঙ্গে মাহমুদুল হাসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মাহমুদুল হাসানের দেওয়া বিয়ের আশ্বাসে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাকিয়া পারভীন ঢাকায় এসে একটি মেসে বসবাস শুরু করেন। মাহমুদুল ঢাকার বাইরে কর্মরত থাকলেও ছুটিতে ঢাকায় এসে বিভিন্ন হোটেলে ওই নারীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো অবস্থান করতেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাজধানীর চকবাজার এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। তবে বিয়ে না করায় ওই নারী ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই চকবাজার থানায় মামলা করার উদ্যোগ নেন। একই দিন মাহমুদুল হাসান তাকে বিয়ে করেন।

তবে বিয়ের পর স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনযাপন না করা এবং স্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বনিবনা না হওয়া, প্রতারণা এবং আগের বিয়ে ও সন্তানের বিষয় গোপন রাখার অভিযোগ তুলে ওই নারী ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর তাকে তালাকের নোটিশ পাঠান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিয়ের আগে বিভিন্ন হোটেল ও ভাড়া বাসায় ওই নারীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো অবস্থান এবং পরে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিয়ে করেও যথাযথ স্ত্রীর মর্যাদা না দেওয়ার বিষয়টি একজন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তার জন্য শৃঙ্খলাবিরোধী, নৈতিক স্খলন ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এ অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। গত ২৮ জুন তাকে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী দিয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

মাহমুদুল হাসান গত ২২ জুলাই অভিযোগের জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর তার ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে অভিযোগের জবাব, রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অভিযোগের গুরুত্ব পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ তাকে লঘুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে সরকারি প্রজ্ঞাপনের বাইরে ওই নারীর করা মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ মার্চ বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে মাহমুদুল তাকে কক্সবাজার নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ করেন ওই নারী।

তার অভিযোগ, ১ এপ্রিল রাজধানীর চকবাজারের হরনাথ ঘোষ রোডে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একটি বাসা ভাড়া নেন মাহমুদুল। সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করলেও পরবর্তী সময়ে বিয়ের বিষয়ে তিনি টালবাহানা করতে থাকেন। বিয়ের জন্য চাপ দিলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন ওই নারী।

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই তিনি চকবাজার থানায় মামলা করতে গেলে মধ্যস্থতার পর ২৭ জুলাই একটি কাজি অফিসে তাকে বিয়ে করেন মাহমুদুল হাসান। ওই নারীর দাবি, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর তাকে কাজি অফিসে রেখেই চলে যান মাহমুদুল।

পরবর্তীতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। নিজের নিরাপত্তা ও প্রতিকারের দাবিতে তিনি ১৪ আগস্ট ডিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে খান মাহমুদুল হাসান সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার না করে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তার আইনজীবী ইমরান হোসেন অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ করেন। তার দাবি, ওই নারী নিজের আগের বিয়ের বিষয় গোপন রেখে মাহমুদুলকে বিয়ে করেছিলেন। এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান ঢাকার সিএমএম আদালতে প্রতারণার মামলা করেছেন বলেও জানান তিনি।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে ওই নারীর করা ধর্ষণের অভিযোগ পৃথক বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। ফলে বিভাগীয় শাস্তির আদেশকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতের রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


Share: