Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / জাতীয় / জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী - Chief TV

জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী - Chief TV

2026-10-18  ডেস্ক রিপোর্ট  44 views
জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী - Chief TV

জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালনের নতুন শপথ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি সেনা পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন। তাই আজকের অনুষ্ঠানে ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থিত হলেও এ ধরনের পরিবেশ তাঁর কাছে নতুন নয়। পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট জাতীয় পতাকা পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে অভিনন্দন জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় পতাকা কেবল একটি পতাকা নয়; এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই পতাকা অর্জনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার নতুন করে গ্রহণ করতে হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সে সময় চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। পরে তিনি রেজিমেন্টে ফিরে বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সংগঠিত করেন এবং ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন। পরদিন ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, একটি বাহিনীর প্রকৃত শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলে সীমাবদ্ধ নয়। শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ, জনগণের আস্থা এবং সর্বোপরি নির্দেশের ধারাবাহিকতা বাহিনীর শক্তির মূল ভিত্তি।

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার করে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে চালকবিহীন উড়োজাহাজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিও সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশেই অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সেনাসদস্যদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘এক পদমর্যাদা, এক পেনশন’ নীতি বাস্তবায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ।


Share: