Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / ঢাকা বিভাগ / সারাদেশ / ঢাকা / মাদকবিরোধী অভিযানে ‘অস্ত্র প্রদর্শনে’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক - Chief TV

মাদকবিরোধী অভিযানে ‘অস্ত্র প্রদর্শনে’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক - Chief TV

2026-10-18  ডেস্ক রিপোর্ট  40 views
মাদকবিরোধী অভিযানে ‘অস্ত্র প্রদর্শনে’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক - Chief TV

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, নিরাপত্তাঝুঁকি ও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তারের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, গত ১৭ অক্টোবর ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে অভিযোগ পেয়ে আসছিলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত জুনে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন। মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা-সরকারি পত্রও দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ ব্যাখ্যা করে ইশরাক হোসেন বলেন, কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা ছিল।

তাঁর দাবি, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলা ও জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। প্রদর্শিত আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘটনার পর গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযানে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দের কথা জানানো হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার সংবাদ প্রকাশ নিয়ে প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এসব সংবাদে অভিযানের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। বরং অস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইশরাক হোসেন বলেন, খণ্ডিত তথ্য ও ছবি দিয়ে সংবাদ পরিবেশন স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী। সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা তাঁর অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। কোনো ঘটনাকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন থামানো যাবে না। জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।


Share: