ময়মনসিংহে সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম ওমর আলীর মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগে করা এ মামলায় মৃত ব্যক্তিকে আসামি করায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি নথিভুক্ত করেন সহকারী পরিচালক মো. বুলু মিয়া।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গাজীপুরের শ্রীপুরের সাবেক পিআইও এস এম ওমর আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাকরিকালে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর স্ত্রী হোসনে আরার নামে ১ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন। মামলায় তাঁর স্ত্রীকে এক নম্বর এবং ওমর আলীকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।
পরিবারের স্থায়ী বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া বিন্নরীপাড়ায়। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওমর আলী ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর মামলায় নাম অন্তর্ভুক্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর ভাই সাইফুর ইসলাম। তিনি ঘটনাটিকে ‘মৃত্যু নিয়ে তামাশা’ বলে অভিহিত করেছেন।
দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্তের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জীবিত নাকি মৃত, তা নিশ্চিত না করে মামলা করায় দুদকের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে দুদকের ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বুলু মিয়া বিষয়টিকে ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, প্রায় ছয় মাস আগে মামলার অনুমোদন প্রক্রিয়া চলার সময় ওমর আলীর মৃত্যুর বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। তবে তদন্তের সময় মামলার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।