Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / ময়মনসিংহ বিভাগ / সারাদেশ / ময়মনসিংহ / পুলিশ হেফাজত থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ - Chief TV

পুলিশ হেফাজত থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ - Chief TV

2026-10-24  ডেস্ক রিপোর্ট  49 views
পুলিশ হেফাজত থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ - Chief TV

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের অভিযানের সময় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজুল আলম শাহীনকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর গ্রামের একটি ফুটবল মাঠের কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

রিয়াজুল আলম শাহীন (৩০) উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরক ও মাদকসহ একাধিক মামলায় তিনি অভিযুক্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে রঙতরঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে একটি ফুটবল খেলা শুরু হয়। খেলার উদ্বোধন করেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান। খেলা দেখতে সেখানে উপস্থিত হন শাহীন। পরে তাঁর অবস্থানের খবর পেয়ে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।

পুলিশের বক্তব্য ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শাহীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে শাহীনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলা হয়। পরে পুলিশের কাছ থেকে তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ সময় অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে শাহীনকে হাতকড়া পরানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাহীনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, মামলাগুলো ২০১৬ সালের ২ আগস্ট, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট দায়ের করা হয়।

ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না; কাছের একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। সেখান থেকে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হতে দেখেছেন। তাঁর দাবি, শাহীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলেই পুলিশ তাঁকে ধরতে গিয়েছিল। রাজনৈতিক কারণে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপনও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এ ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে। তিনি পুলিশকে বারবার আটক ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে বলেছেন বলেও দাবি করেন।

আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি একটি বিশেষ অভিযানে রয়েছেন এবং বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ রোমন বলেন, রিয়াজুল মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাঁকে পালাতে সহযোগিতা করেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন ওসি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।


Share: