Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / জাতীয় / রাষ্ট্রপতির বেতন-ভাতা কত? - Chief TV

রাষ্ট্রপতির বেতন-ভাতা কত? - Chief TV

2026-08-21  ডেস্ক রিপোর্ট  40 views
রাষ্ট্রপতির বেতন-ভাতা কত? - Chief TV

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথকে ঘিরে বঙ্গভবনের দরবার হলে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় সেখানে শপথ নেবেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়েও জনমনে রয়েছে নানা কৌতূহল।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় তিনি সরকারপ্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটি মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্বের দিক থেকে সর্বোচ্চ হলেও নির্বাহী ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত।

সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে। তবে অধিকাংশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।

রাষ্ট্রপতির আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্টে। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা আয়করমুক্ত। ২০১৬ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির বেতন বাড়ানো হয়। এর আগে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা।

রাষ্ট্রপতির আপ্যায়নের জন্যও বার্ষিক ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বাসভবন হিসেবে বঙ্গভবন, গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধা পান তিনি। সরকারি কাজে বিদেশ সফরের সময় নির্ধারিত হারে ভাতাও পাওয়ার বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির জন্য বছরে ২ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল রয়েছে। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অর্থ ব্যয় করা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। দেশের যেকোনো হাসপাতালে তারা বিনা খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করে।

বিমানভ্রমণের জন্যও রাষ্ট্রপতির বিশেষ সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে এ খাতে বছরে ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পাওয়ার বিধান রয়েছে। ২০১৬ সালের আগে এ সুবিধার পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ টাকা।

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে অন্যতম হলো প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই দুটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বাধ্য নন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ ছাড়া সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফের ক্ষমতাও রয়েছে। কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড নির্দিষ্ট সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে তিনি কমাতে বা মওকুফ করতে পারেন।

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে। তার কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না।

তবে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের বাইরে নন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাকে অভিশংসন করা যায়। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তিনি সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারান এবং কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর হতে হয় এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতির পদটি মর্যাদা ও সাংবিধানিক গুরুত্বের দিক থেকে দেশের সর্বোচ্চ হলেও সংসদীয় ব্যবস্থায় তার নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। রাষ্ট্রপতি মূলত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন। বিপরীতে সরকারের কার্যকর নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত থাকে।


Share: