মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিককে মারধর, আটকে রাখা এবং সংবাদ সংগ্রামের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খায়রুজ্জামান ওরফে আকামত নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকা অজ্ঞাতনামা আসামিদের একজন।
গাংনী থানা পুলিশের এসআই অঙ্কুশ ও এসআই করিমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগের দৃশ্য ধারণ করতে যান নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি ও দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি তারিক।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহের সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। পরে তাদের দুটি মোবাইল ফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
হামলায় আহত দুই সাংবাদিককে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা গাংনী থানায় গিয়ে মামলা করেন।
এ ঘটনায় দুই শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লব ও রফিকুজ্জামান বাবর আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় রুজু করা হয়েছে।
মামলার পর থেকেই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় তেঁতুলবাড়িয়া এলাকা থেকে খায়রুজ্জামান ওরফে আকামতকে আটক করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে গাংনী থানা পুলিশ।
এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মেহেরপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।