চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাদিয়া ইসলাম মায়া (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত সাদিয়া ইসলাম মায়া সীতাকুণ্ড পৌরসভার হাসান গোমস্তা মসজিদসংলগ্ন কাউন্সিলর বাড়ি এলাকার আবুল হাশেমের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় মায়াকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এসে দ্রুত দাফনের প্রস্তুতি নেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে কিশোরীর গলায় আঘাতের চিহ্ন। এতে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে স্থানীয়রা দাফনে বাধা দেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কিশোরীর মৃত্যু স্বাভাবিক মনে হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত দাফনের চেষ্টা করা হলেও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপরই পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুর ইসলাম জানান, নিহতের মা-বাবার দাবি, মায়া স্ট্রোক করে মারা গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ পারিবারিক বিরোধ বা নির্যাতনের কারণে মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করলেও এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিহতের বাবা আবুল হাশেমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।