উপমহাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মাওলানা আবুল আ’লা মওদুদীর রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক ওরফে সাদিক কায়েম।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বাউফল উপজেলা শাখা।
সাদিক কায়েম বলেন, এই অঞ্চলে মাওলানা আবুল আ’লা মওদুদী একজন গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক ছিলেন। তার হাত ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মওদুদীর রাজনৈতিক ভিশনের ওপর উপমহাদেশের অনেক কিছু দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষার্থীদের তার মতো তাত্ত্বিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি ইমাম হাসান আল বান্না, ইবনে সিনা ও বদিউজ্জামান সাঈদ নূরসীর মতো ব্যক্তিদের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব ব্যক্তি সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন। তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশেও অনেকে সমাজ পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছেন।
এ সময় সাদিক কায়েম জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মীর কাশেম আলীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তার দাবি, ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠা, মানবতার মুক্তি ও সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্যও মীর কাশেম আলী কাজ করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিকাশে মীর কাশেম আলী ও তার সহযোগীদের ভূমিকা ছিল। একই সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে জামায়াতের সাবেক দুই নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাউফল উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১২৩ শিক্ষার্থীকে ফুল, শিক্ষাসামগ্রী ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।