ডাকসুর সময়কার পুরোনো পোস্ট ও ভিডিও সামনে আসায় নিজের বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা। অতীতের দিনগুলোর কথা মনে করে নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে হতাশা ও কষ্টের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা লেখেন জুমা। তিনি জানান, মাঝেমধ্যে রাত ১২টার পর ফেসবুকের মেমোরিতে ঢোকেন। ইদানীং ডাকসুর সময়কার পুরোনো পোস্ট ও ভিডিও সামনে আসছে। সেগুলো দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়।
জুমা লেখেন, পুরোনো পোস্টগুলোর বেশিরভাগ মন্তব্যে তার সঙ্গে ওসমান ভাইয়ের খুনসুটির স্মৃতি রয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে অনেক কিছু বদলে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক বন্ধু ছেড়ে গেছেন। কেউ ভুল বুঝে, কেউ আবার ঠিক বুঝে দূরে সরে গেছেন। অনেকেই মাঝপথে তার হাত ছেড়ে দিয়েছেন বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।
নিজের পরিবর্তনের কথা বলতে গিয়ে জুমা বলেন, ডাকসুতে আসার পর তাকে নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণের কারণে তার জীবনের অনেক সরলতা নষ্ট হয়ে গেছে। নিজের পুরোনো ছবির সঙ্গে বর্তমান চেহারার তুলনা করে তিনি নিজের প্রতি মায়া অনুভব করার কথাও জানান। আগে ত্বকের যত্ন নিয়ে সচেতন থাকলেও বর্তমানে নানা চাপের কারণে সানস্ক্রিন দেওয়ার কথাও ভুলে যান বলে লেখেন।
ডাকসুর বিভিন্ন কাজের আর্থিক চাপ, মানুষের নানা সমালোচনা ও মানসিক চাপের কারণে কান্নাকাটি করতে করতে নিজের চেহারার পরিবর্তন হয়েছে বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।
জুমা আরও জানান, তার পরিচিত অনেককে আনফ্রেন্ড করেছেন। কারণ, আওয়ামী লীগের নানা পোস্ট ও ছবিতে তাদের হাসাহাসি বা বিদ্রূপের প্রতিক্রিয়া দেখতে তার খারাপ লাগে। আবার যাদের পক্ষে তিনি দিনের পর দিন কাজ করেন, তাদের কেউ কেউ পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধেও বিদ্বেষ ছড়ান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে কাদের ভালো ভেবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন জাগে বলে জানান।
নিজের ‘ইনার চাইল্ড’ বা ভেতরের শিশুসত্তাকে ধরে রাখার কথা উল্লেখ করে জুমা লেখেন, হঠাৎ করেই তিনি নিজেকে অপরিচিত মনে করতে শুরু করেছেন। তার ভাষায়, ‘আমি তো চিনিনা এই আমিরে। আমার তো ভালো লাগে না ম্যাচিউর হইতে। আমার মন চায় আমি একটা বাচ্চা হইয়া থাকি।’
দিন শেষে মন খারাপ হলে কথা বলার মতো একজন ভাইকে পাশে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে নানা বাধা ও সমালোচনা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার মতো তরুণদের প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
পোস্টের শেষ দিকে জুমা লেখেন, ‘নাই। কেউ নাই। কিছু নাই!’