শেষনিশ্বাস পর্যন্ত দেশ ও দেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার অঙ্গীকার করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুজরাটের বানাসকাণ্ঠায় এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের সেবা করে যেতে চান। তাঁর এ বক্তব্যের পর ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত শুক্রবার গুজরাটের বানাসকাণ্ঠায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেন মোদি। সেখানে আবেগপূর্ণ বক্তব্যে তিনি বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেশের মানুষের সেবায় নিবেদিত থাকবেন। শেষনিশ্বাস পর্যন্ত মানুষের সেবাকেই নিজের ব্রত হিসেবে পালন করতে চান বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের স্মৃতিও তুলে ধরেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম বড় জনসভাও বানাসকাণ্ঠায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গুজরাটের মানুষই তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মোদি বলেন, তিনি এমন একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, যেখানে কেউ কখনো পঞ্চায়েতপ্রধান হওয়ার স্বপ্নও দেখেননি। সাধারণ পরিবার থেকে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে দেশের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনকে কৃতিত্ব দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে মোদি বলেন, তখন সরকারি নথিপত্র কিংবা প্রশাসনিক নীতিমালা সম্পর্কে তাঁর তেমন ধারণা ছিল না। গুজরাটের মানুষ ভালোবাসা দিয়ে তাঁকে সবকিছু শিখিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের তাঁকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ না বলে আগের মতো ‘নরেন্দ্র ভাই’ বলে সম্বোধনের অনুরোধ জানান তিনি।
বানাসকাণ্ঠা সফরে ১৪ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন মোদি। কৃষি, দুগ্ধশিল্প, অবকাঠামো ও যোগাযোগ খাতে এলাকার অগ্রগতির প্রশংসা করেন তিনি।
জনসভায় কৃষকদের উন্নত ভারত গড়ার অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান সরকার কৃষকদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে পশুপালন খাতের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত এক দশকে এ খাতে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে।
এ সময় পূর্ববর্তী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগ তোলেন মোদি। তিনি দাবি করেন, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। সরকারের নীতির কারণে কৃষকেরা প্রায় ৫০ লাখ কোটি রুপি পেয়েছেন এবং সমপরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
দুই দিনের গুজরাট সফরে মোদি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কেভাদিয়ায় আয়োজিত একতা দিবসের অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। তাঁর শেষনিশ্বাস পর্যন্ত দেশসেবার অঙ্গীকারের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।