ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্প নিজেকে অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে রেখেছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট। ২০ বছর বয়সী ব্যারন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের পড়াশোনা শেষ করার পর গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে মা মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে কাটিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে একাধিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, ব্যারন স্বভাবগতভাবেই অন্তর্মুখী এবং সাধারণত বাইরে বের হওয়া কিংবা জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলেন। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার চলাফেরায় আরও সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের সঙ্গে ব্যারনের ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যারন গভীরভাবে প্রভাবিত হন। এ ঘটনার পর তিনি বাবার সঙ্গে কথা বলে বাইরে বের হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ব্যারনের নিরাপত্তা নিয়ে তার মা মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয় থেকেও সতর্কতা অবলম্বনের কথা জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক হুমকি ও জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ শেষে ব্যারনের সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও মেলানিয়ার অনুরোধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন বিশেষ বিবেচনায় তার নিরাপত্তা বহাল রাখার অনুমোদন দিয়েছিল।
সম্প্রতি ব্যারনকে ঘিরে ইরান-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে হুমকির খবরও সামনে এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একটি চ্যানেলে ব্যারনকে লক্ষ্য করে হুমকিসংবলিত একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওতে তার চলাফেরার তথ্য তুলে ধরে হত্যার হুমকি এবং তথ্যদাতার জন্য বড় অঙ্কের পুরস্কারের কথাও উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ব্যারনকে ঘিরে প্রচারিত হুমকি ও ভিডিও সম্পর্কে তারা অবগত এবং সুরক্ষিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য যেকোনো হুমকি নিয়মিতভাবে তদন্ত করা হয়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই ব্যারনকে হত্যার পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্রের খবরকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।