জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে সম্ভাব্য নতুন প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লানা নুসেইবেহ। চলতি বছরের শেষে বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে সমর্থন নিয়ে টানাপোড়েন থাকায় প্রতিযোগিতা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুসেইবেহর সমর্থকেরা জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়ে সমর্থন যাচাই করছেন। জাতিসংঘে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তিনি কূটনৈতিক মহলে পরিচিত। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নুসেইবেহ চলতি সপ্তাহেই মহাসচিব পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করতে পারেন বলে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লানা নুসেইবেহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ। তিনি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের সোয়াসে ইসরায়েল ও ইহুদি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন।
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জাতিসংঘে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নুসেইবেহ। এ সময় তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, নারী ও মেয়েদের অধিকার এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন।
২০১৭ সালে তিনি জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারবিষয়ক আন্তসরকারি আলোচনায় সহসভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়ন, জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় কূটনীতি এবং ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন নুসেইবেহ। তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন ঘিরে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকেরা।