নারায়ণগঞ্জে মুঠোফোনে কথা বলার সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের একটি ফোনে আগুন ধরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন ফোনটির ব্যবহারকারী মোহাম্মদ নাহিদ হাসান।
নাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ইনফিনিক্স হট ৬০আই মডেলের ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ ফোনটি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে ওঠে। বিপদের আশঙ্কায় দ্রুত ফোনটি হাত থেকে মাটিতে ফেলে দেন তিনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।
এতে ফোনটি পুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময়মতো ফোনটি হাত থেকে ফেলে দেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন নাহিদ।
তিনি জানান, প্রায় এক বছর আগে ফোনটি কিনেছিলেন। তাঁর দাবি, ফোনটি হাত থেকে ফেলে দিতে আরও পাঁচ সেকেন্ড দেরি হলে সেটি কানের কাছেই বিস্ফোরিত হতে পারত। এতে তাঁর হাত, কান ও মাথার এক পাশ গুরুতরভাবে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। স্বাভাবিকভাবে ফোন ব্যবহার করার সময় এমন ঘটনা ঘটায় এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে ইনফিনিক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে এনপিবি নিউজের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপক ইফতেখার উদ্দিন সানীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোনকল গ্রহণ না করায় এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বছরের ১২ জানুয়ারি প্রাইভেট পড়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে এক ব্যক্তির পকেটে থাকা ইনফিনিক্স হট ৫০ প্রো প্লাস মডেলের ফোনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর শরীরে আগুন ধরে যায়। পরে তাঁকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ইনফিনিক্সের পক্ষ থেকে ওই ভুক্তভোগীকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ধরনের ঘটনার পর ইনফিনিক্স ফোনের ব্যাটারির মান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন গ্রাহকদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, ফোনের ব্যাটারি কিংবা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। তবে নারায়ণগঞ্জে ঘটে যাওয়া সর্বশেষ ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।