নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ডিবি হেফাজতে থাকার সময়কার একটি দুঃসহ রাতের স্মৃতি তুলে ধরেছেন তার মেয়ে শামারুহ মির্জা। তিনি জানিয়েছেন, ডিবি কার্যালয়ে থাকাকালে পাশের কক্ষ থেকে একজনকে মারধরের শব্দ ও তার আর্তচিৎকার শুনে সারারাত ঘুমাতে পারেননি তার বাবা।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও পডকাস্টার ঈশা রুশদির সঙ্গে এক পডকাস্টে এসব কথা বলেন শামারুহ মির্জা। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে ঈশা রুশদি তার ফেসবুক প্রোফাইলে পডকাস্টটি প্রকাশ করেন।
শামারুহ জানান, ২০১৫ সালের ঠিক আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কক্ষে ভিড় ছিল। পাশের দুই-তিনটি কক্ষ থেকে মারধরের শব্দ ভেসে আসছিল। এসব শব্দে ওই রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি তিনি।
শামারুহ মির্জার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা পাশের কক্ষ থেকে একজনের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলেন। ওই ব্যক্তি বারবার ‘মা মা’ ও ‘পানি পানি’ বলে চিৎকার করছিলেন। একপর্যায়ে তার চিৎকার থেমে যায়। কেন চিৎকার থেমে গেল বা ওই ব্যক্তির পরে কী হয়েছিল, তা মির্জা ফখরুল আজও জানতে পারেননি বলে জানান শামারুহ।
তার মতে, ওই রাতের অভিজ্ঞতা মির্জা ফখরুলকে মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছিল। নেতাকর্মীদের কষ্ট ও বিভিন্ন ঘটনার কথা শুনে তিনি ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়তেন বলেও জানান তার মেয়ে।
শামারুহ আরও বলেন, কারাগার থেকে ফেরার পর তার বাবা দেশের তরুণ নেতাকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তার ভাষ্য, অনেক তরুণ স্বাভাবিক সংসারজীবন কাটাতে পারেননি; কেউ কারাগারে ছিলেন, কেউ পালিয়ে বেড়িয়েছেন এবং অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন—এসব বিষয় বাবাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল।