রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পরও সন্ধান মেলেনি সাত বছরের এক শিশুর। সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণীর সঙ্গে শিশুটিকে রিকশায় উঠতে দেখা গেছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ আগারগাঁও পর্যন্ত রিকশাটির গতিপথ শনাক্ত করতে পারলেও এরপর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পূর্ব শেওড়াপাড়ার বাসার কাছ থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কাফরুল থানা পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, মা-বাবার সঙ্গে পূর্ব শেওড়াপাড়ায় বসবাস করত শিশুটি। তার বাবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির কাছেই খেলছিল সে। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি গলি থেকে কালো সালোয়ার-কামিজ পরা এক তরুণী শিশুটির হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছেন।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই তরুণীকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। পুলিশের ধারণা, শিশুটির সঙ্গে ওই তরুণীর আগে থেকেই পরিচয় থাকতে পারে। কারণ, শিশুটিকে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সঙ্গে যেতে দেখা গেছে।
এরপর ওই তরুণী শিশুটিকে নিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন। বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ রিকশাটির গতিপথ আগারগাঁও পর্যন্ত শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এরপর রিকশাটি কোন দিকে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ আগারগাঁও মোড়সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালালেও সন্দেহভাজন ওই তরুণীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শিশুটিকে বহনকারী রিকশাটি শনাক্ত করতে একাধিক পুলিশ দল বিভিন্ন রিকশার গ্যারেজেও অভিযান চালিয়েছে।
ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, শুধু সিসিটিভি ফুটেজের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। রিকশাটি শনাক্ত করা গেলে শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শুক্রবার কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন শিশুটির স্বজনেরা। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কেউ পরিবারের কাছে কোনো মুক্তিপণ দাবি করেনি। শিশুটিকে কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এক দিন থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো সন্ধান মেলেনি ৬৮ জনের।
একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১ হাজার ৯৭০ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হলেও এখনো ২ হাজার ৩৮ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।