Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / খুলনা বিভাগ / সারাদেশ / বাগেরহাট / মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের আড়ালে চার বিলাসবহুল গাড়ি - Chief TV

মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের আড়ালে চার বিলাসবহুল গাড়ি - Chief TV

2026-08-27  ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ  40 views
মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের আড়ালে চার বিলাসবহুল গাড়ি - Chief TV

মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা চারটি বিলাসবহুল গাড়ির চালান শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দ করা গাড়িগুলোর বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হলেও চালানটির ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। এতে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গত ১৯ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। এতে বেরিয়ে আসে, ১৬৪টি প্যাকেজে ১৪ ধরনের ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া পণ্যগুলো আসলে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি। গাড়িগুলো বড় বড় অংশে কেটে যন্ত্রাংশের আড়ালে আমদানি করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ঢাকার গেন্ডারিয়াভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে চালানটি আমদানি করে। বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪ অনুযায়ী, চালানটির ঘোষিত মূল্য ছিল মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাথমিক হিসাবে গাড়িগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।

জব্দ করা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। তদন্তকারী সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়িগুলো এমনভাবে কাটা হয়েছে, যাতে পুনরায় সংযোজন করলে মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন থাকে।

বিআরটিএ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় করা পরীক্ষায় গাড়িগুলোর বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ, সংবেদকসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ অক্ষত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে এগুলোকে সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই বলে মনে করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা শুল্ক-কর পরিশোধের চেষ্টা করেছিল। অথচ গাড়িগুলো সম্পূর্ণ মোটরযান হিসেবে আমদানি করা হলে রাষ্ট্রের কোষাগারে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব জমা হওয়ার কথা ছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর বলছে, কোনো পণ্য খণ্ডিত অবস্থায় আমদানি করা হলেও তাতে যদি মূল পণ্যের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য বা ‘এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার’ বিদ্যমান থাকে, তাহলে সেটিকে সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে। সেই বিবেচনায় চালানটিকে সাধারণ যন্ত্রাংশ হিসেবে ছাড়পত্র না দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসটি ইন্টারন্যাশনালের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গাড়িগুলোর প্রকৃত মূল্য, ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও বয়স বিবেচনায় চূড়ান্ত শুল্ক-কর নির্ধারণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


Share: