সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে মজুরি কমে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন শত শত শ্রমিক। দুই বছর আগেও সারাদিন কাজ করে যেখানে একজন শ্রমিক ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় করতেন, সেখানে বর্তমানে একই সময় কঠোর পরিশ্রম করেও মিলছে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
মজুরি কমে যাওয়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, পণ্য ওঠানো-নামানোর মতো শারীরিকভাবে কঠিন কাজ করেও আগের তুলনায় মজুরি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
শ্রমিকদের ভাষ্য, ভোর থেকে দিনের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বন্দরে ভারী মালামাল ওঠানো-নামানোর কাজ করতে হয়। এতে ব্যাপক শারীরিক পরিশ্রম হলেও সেই তুলনায় বর্তমান মজুরি অত্যন্ত কম। দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সংসারের ব্যয় বাড়লেও তাদের আয় বাড়েনি, বরং কমেছে।
একাধিক শ্রমিক জানান, দুই বছর আগেও সারাদিন কাজ শেষে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পাওয়া যেত। এখন একই পরিমাণ শ্রম দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করতে হচ্ছে। এই সামান্য অর্থ দিয়ে পরিবারের খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় দৈনিক মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে তাদের ন্যায্য অধিকার ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। শ্রমিকদের আশঙ্কা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না হলে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের শত শত শ্রমিক ও তাদের পরিবার আরও বড় দুর্ভোগে পড়বে।
তবে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের ইজারাদারের দাবি, দেশের অন্যান্য বন্দরের শ্রমিকদের তুলনায় এখানকার শ্রমিকদের বেশি হারে মজুরি দেওয়া হয়।