ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নারকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দিদারুল আলম (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কিশোরটির পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত দিদারুল আলম কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের চৌবেপুর গ্রামের আল আমিনের ছেলে।
নিহতের চাচা স্বপন মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার প্রতিবেশী ইউনুছ মিয়ার স্ত্রী রুনা আক্তার নারকেল পাড়ার জন্য দিদারুলকে ডেকে নেন। সে সময় নারকেলগাছে ওঠার প্রস্তুতি নেওয়ার আগে রুনা আক্তারের ভাতিজা মাহিদ মিয়া এসে নারকেল পাড়তে বাধা দেন। এ নিয়ে রুনা আক্তার ও মাহিদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে মাহিদ দিদারুলের কাছে জানতে চান, সে কেন নারকেল পাড়তে এসেছে। দিদারুল জানায়, তার চাচি রুনা আক্তারই তাকে ডেকে এনেছেন। এরপর মাহিদ তাকে নারকেল পাড়তে নিষেধ করেন এবং নিষেধ অমান্য করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা।
স্বপন মিয়ার দাবি, দিদারুল বাড়ির দিকে রওনা হলে উত্তেজিত মাহিদ সঙ্গে থাকা ধারালো দা দিয়ে তার মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। এতে দিদারুল গুরুতর আহত হয়। তার চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে শুক্রবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।