Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / রাজনীতি / নুরের ‘শেখ হাসিনাকে মা’ ডাকার ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খান - Chief TV

নুরের ‘শেখ হাসিনাকে মা’ ডাকার ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খান - Chief TV

2026-08-23  ডেস্ক রিপোর্ট  45 views
নুরের ‘শেখ হাসিনাকে মা’ ডাকার ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খান - Chief TV

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, গণ-অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরকে তার অতীত ছাত্রলীগের রাজনীতি কিংবা শেখ হাসিনাকে ‘মা’ ডাকার বক্তব্যের ভিত্তিতে বিচার করা ঠিক হবে না। বরং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নূরের পরবর্তী ভূমিকা ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার অবস্থান বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে এসব কথা বলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, নুরুল হক নূর একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতায় সক্রিয় হন।

রাশেদ খান বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নূর কখন আন্দোলন শুরু করেছেন এবং এরপর কখনো আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কি না, সেটিই বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন সময়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করার কারণে নূরকে আদালত পর্যন্ত যেতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নুরুল হক নূরের ভূমিকার প্রশংসা করে রাশেদ খান বলেন, সে সময় সমসাময়িক তরুণ নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন নূর। আন্দোলনের সময় তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খান আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পরও নূর শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিয়ে দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন। তাই তার এমন ভূমিকার পর তাকে শুধু অতীতের ছাত্রলীগের রাজনীতি কিংবা শেখ হাসিনাকে ‘মা’ ডাকার বক্তব্যের ফ্রেমে বিচার করা যায় না।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ বা সম্পর্ক থাকলেই একজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে ফেলে দেওয়া ঠিক নয়। ছাত্রজীবনের শুরুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও পরবর্তী আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নূর আওয়ামী লীগের বিরোধী অবস্থানে চলে আসেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনায় জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ খান। এ প্রসঙ্গে তিনি বক্তা আমির হামজার পুরোনো বক্তব্যের উদাহরণ দেন। তার দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর যোগাযোগ থাকলেও শুধু সেই অতীতের ভিত্তিতে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান বিচার করা উচিত নয়।

জামায়াতের রাজনীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলে রাশেদ খান বলেন, বিএনপি ও জামায়াতকে একইভাবে মূল্যায়ন করা যায় না। বিএনপি নেতৃত্বের জায়গায় থেকেছে এবং জামায়াতের আদর্শে বিলীন হয়ে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাশেদ খান দাবি করেন, বিএনপির দেশে থাকা নেতা-কর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং তাদের অনেকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির অনেক প্রতিনিধিও আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ১৬ বছরে তাদের কাউকে রাজপথে সক্রিয় হতে দেখেননি। তবে আলোচনায় অপর পক্ষ থেকে জামায়াতের আমিরসহ দলের অনেক নেতার জেল-জুলুমের শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। জবাবে রাশেদ খান বলেন, বিএনপির তুলনায় জামায়াতের এমন নেতার সংখ্যা অনেক কম।


Share: