Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / চট্টগ্রাম বিভাগ / সারাদেশ / কক্সবাজার / ‘ওদের নিয়েই বাঁচতাম, ওরা কোথায় হারিয়ে গেল’ - Chief TV

‘ওদের নিয়েই বাঁচতাম, ওরা কোথায় হারিয়ে গেল’ - Chief TV

2026-10-18  ডেস্ক রিপোর্ট  43 views
‘ওদের নিয়েই বাঁচতাম, ওরা কোথায় হারিয়ে গেল’ - Chief TV

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন একই পরিবারের চার সদস্য। তাঁরা হলেন আফসানা মতিন তানজি (৩৬), তাঁর স্বামী নাহিদুর রহমান (৪১) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। তাঁদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

নিখোঁজ চারজনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আফসানার বড় বোন, স্কুলশিক্ষক ফারজানা মতিন। দুই ভাগনির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ওরা খুব সুখী ছিল। একদম ফুলের মতো। ওদের দিকে তাকালে তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছা করবে শুধু।’

সাতক্ষীরার বাসিন্দা ফারজানা জানান, শনিবার দুপুরের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর দেখেন তিনি। খবরের সঙ্গে ছোট বোনের পরিবারের বেড়াতে যাওয়ার তথ্য মিলে যাওয়ায় তাঁর সন্দেহ হয়। এর আগে সকাল সাতটা থেকেই আফসানা ও নাহিদের মুঠোফোন বন্ধ পাচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

ফারজানা বলেন, নাহিদ সাধারণত মুঠোফোন বন্ধ রাখতেন না। তাই দুজনের ফোন একসঙ্গে বন্ধ পেয়ে তাঁর মনে হয়েছিল, তাঁরা কোনো বিপদে পড়েছেন। পরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। কক্সবাজারে পরিচিতজনদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালেও খোঁজ নেওয়া হয়। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় চারজনের নাম খোঁজা হলেও তাঁদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নাহিদুর রহমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে চাকরি করতেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করতেন তিনি। গত শুক্রবার সকালে তাঁরা কক্সবাজারে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। রিসোর্টটির পরিবেশ ও সমুদ্র- পাহাড়ের দৃশ্য নিয়েও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন আফসানা।

রিসোর্টটিতে শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় তখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। স্বজনদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনের পরিচয় অনুমান করা হলেও তা চূড়ান্ত নয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার আগে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে যেসব পরিচয়ের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো এখনো দাবির পর্যায়ে রয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে সময় লাগবে।

এদিকে নিখোঁজ চারজনের সন্ধানে পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। নাহিদের ভাই ও বন্ধুরাও সেখানে যাচ্ছেন। দুই ছোট ভাগনির কথা মনে করে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ফারজানা। তাঁর কণ্ঠে একটাই প্রশ্ন—‘ওরা কোথায় হারিয়ে গেল। ওদের কি আর ফিরে পাব না?’


Share: