Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / রাজশাহী বিভাগ / সারাদেশ / জয়পুরহাট / রেলস্টেশনে নেই ছাউনি রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ যাত্রীদের - Chief TV

রেলস্টেশনে নেই ছাউনি রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ যাত্রীদের - Chief TV

2026-08-26  রিফাত হোসেন মেশকাত, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি  41 views
রেলস্টেশনে নেই ছাউনি রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ যাত্রীদের - Chief TV

আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলেই শুরু হয় যাত্রীদের ছোটাছুটি। কেউ ছুটছেন টিকিট কাউন্টারের দিকে, কেউ দোকানের নিচে আশ্রয় নিচ্ছেন। আবার কেউ অপেক্ষা করছেন ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। কিন্তু ট্রেন আসার ঘোষণা হলেই সেই আশ্রয় ছেড়ে ছুটতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে থাকা ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। কারণ ট্রেন ক্রসিংয়ের সময় বিপরীত দিকের ট্রেনটি সেখানে দাঁড়ায়। ফলে ট্রেন আসার অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে ওই প্ল্যাটফর্মে গিয়ে অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলস্টেশনের প্রায় ৩৫০ মিটার দীর্ঘ ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কোনো যাত্রী ছাউনি না থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। বৃষ্টি হলে ভিজে যায় কাপড়, ব্যাগ, কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। অন্যদিকে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় খোলা আকাশের নিচে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দীর্ঘ অংশজুড়ে যাত্রীদের জন্য কোনো স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টি শুরু হলে নিরাপদ জায়গার খোঁজে যাত্রীরা ছুটে যান দোকান, টিকিট কাউন্টার কিংবা অন্য কোনো আশ্রয়ের নিচে। আবার ট্রেন আসার ঘোষণা হলে দ্রুত প্ল্যাটফর্মে ফিরতে হয়। এতে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি হয়।

রেলওয়ে সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আক্কেলপুর স্টেশন দিয়ে আপ-ডাউন মিলিয়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন। ট্রেন ক্রসিংয়ের কারণে সপ্তাহে গড়ে ২৫ থেকে ২৮ বার ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড়ায়। ওই সময় প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের চাপও বেড়ে যায়।

বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যাওয়া রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগ বেশি। একদিকে রোগী সামলাতে হয়, অন্যদিকে ব্যাগ, চিকিৎসার কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করতে হয়। বৃষ্টিতে প্রেসক্রিপশন, চিকিৎসার রিপোর্ট, ওষুধ ও কাপড় ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকায় অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের শারীরিক কষ্টও বেড়ে যায়।

পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মীর শাহে আলী প্রায় ৩০ মিনিট ধরে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, বৃষ্টি শুরু হলে এখানে দাঁড়িয়ে থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। রোদেও ছায়া পাওয়া যায় না। সঙ্গে ছোট বাচ্চা, বয়স্ক বা রোগী থাকলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। একটি ছাউনি থাকলে যাত্রীদের এত কষ্ট করতে হতো না।

চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় যাচ্ছিলেন রওশন আরা। তিনি বলেন, রোগী নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে খুব কষ্ট হয়। একদিকে রোগী সামলাতে হয়, অন্যদিকে ব্যাগ ও কাগজপত্র বাঁচাতে হয়। রোদের সময়ও রোগী নিয়ে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন। প্ল্যাটফর্মে একটি ছাউনি থাকলে এতটা দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

স্থানীয় বাসিন্দা বকুল সরদার বলেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ যে প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করেন, সেখানে ছাউনি না থাকা মেনে নেওয়া যায় না। বৃষ্টি হলেই যাত্রীদের ছোটাছুটি করতে হয়, আবার রোদের সময়ও ছায়ার জন্য এদিক-ওদিক ছুটতে হয়। দ্রুত এখানে ছাউনি নির্মাণ করা দরকার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছাউনি থাকলেও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের যাত্রীদের জন্য কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। অথচ ট্রেন ক্রসিংয়ের কারণে নিয়মিত ওই প্ল্যাটফর্মেই ট্রেন দাঁড়ায়। ফলে ছাউনি না থাকলেও যাত্রীদের বাধ্য হয়ে সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করতে হয়। যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত অন্তত একটি অংশে ছাউনি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল হাসান বলেন, ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে জায়গা সংকটের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যাত্রীরা প্রায়ই এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। তাদের দুর্ভোগ দেখে স্টেশন কর্তৃপক্ষেরও খারাপ লাগে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় চারটি ট্রেন ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ায়।


Share: