বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথকে ঘিরে বঙ্গভবনের দরবার হলে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঐতিহাসিক দরবার হলে তার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এদিকে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শপথ অনুষ্ঠানে ১২ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই বঙ্গভবন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। বঙ্গভবনের প্রবেশপথসহ আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশ ও চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও প্রস্তুতি নিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথকে সামনে রেখে বঙ্গভবনের দরবার হলও নতুন করে সাজানো হয়েছে। ঐতিহাসিক এই দরবার হলেই এর আগে একাধিক রাষ্ট্রপতির শপথসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। পরে নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করে।
নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১১ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর বিধি ১২ (৬) অনুযায়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।