Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / জাতীয় / যেভাবে গুম হয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ - Chief TV

যেভাবে গুম হয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ - Chief TV

2026-08-30  ডেস্ক রিপোর্ট  43 views
যেভাবে গুম হয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ - Chief TV

২০১৫ সালে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে তৎকালীন বিএনপির মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তাকে কী প্রক্রিয়ায় ভারতে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ভারতে তার বিরুদ্ধে হওয়া ফরেনার্স অ্যাক্টের মামলার নথিও সংগ্রহ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের অভিযোগের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় মূল তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে। অনেক আসামি ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন এবং আরও কয়েকজনের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

২০২৫ সালের ৫ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে জিয়াউল আহসানকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদকে কীভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। ভারতে তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় হওয়া মামলার অনুলিপি সংগ্রহের পাশাপাশি ওই মামলায় আদালতে উপস্থাপিত বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আদালতে সালাহউদ্দিন আহমদের নিজের বক্তব্য, তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, চিকিৎসকের বক্তব্য এবং তাকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে যে সালাহউদ্দিন আহমদকে বাংলাদেশ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। পরে প্রায় ৬১ দিন তাকে টিএফআই সেলে, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, আটকে রাখা হয়। এরপর তাকে মেঘালয়ের শিলংয়ে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছিল। প্রায় দুই মাস পর একই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। সে সময় বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকায় তার বিরুদ্ধে ভারতের ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা হয়।

ওই মামলায় ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে খালাস পান সালাহউদ্দিন আহমদ। ভারত সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালতেও তিনি খালাস পান। পরে তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ভারতীয় আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে সালাহউদ্দিন আহমদ স্বেচ্ছায় ভারতে যাননি—এমন তথ্য উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে করা মামলায় ভারতীয় পুলিশের সাক্ষীরাও তাকে বাংলাদেশ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কাছাকাছি চলে এসেছে। তদন্তের ভিত্তিতে যাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস পান। পরে ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।


Share: