বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক ও এক নার্সকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নার্সের বড় ভাই মো. ওমর ফারুক। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত পোস্ট এবং সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের বাজারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, গত ২৮ আগস্ট কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল ও ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তার বোন নার্স মোছা. তাসমিয়া সুলতানাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এসব প্রচারণায় তার বোন ও পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাসমিয়া সুলতানাকে নিয়ে যেসব অভিযোগ ও বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে, তার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য না নিয়ে এবং যথাযথ তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ওমর ফারুক আরও জানান, তাসমিয়া সুলতানার সঙ্গে তার সাবেক স্বামী সাজ্জাদ হোসেন শাহিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বৈবাহিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর বিভিন্ন সময়ে তার বোনকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রানির অভিযোগও করেন তিনি।
তার দাবি, গত ২২ আগস্ট সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে তার বোনকে জড়িয়ে নানা অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
এ ধরনের প্রচারণার কারণে তার বোন সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে এতদিন তারা নীরব ছিলেন। সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সুমনুল হকও তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে তৈরি কিছু লেখা ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ডা. সুমনুল হক বলেন, চিকিৎসাসেবা প্রদানের প্রয়োজনে একজন চিকিৎসককে নার্সসহ অন্যান্য সহকর্মীর সঙ্গে নিয়মিত পেশাগত যোগাযোগ রাখতে হয়। রোগীর চিকিৎসা, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানের এই স্বাভাবিক যোগাযোগকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িতদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নার্সের পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।