দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মানুষকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপশক্তি যাতে কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বৈশ্বিক পরিসরে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু—এ পরিচয় মুখ্য নয়। সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সরকার দেশের সব নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। এ লক্ষ্য পূরণে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্র সহায়তা করবে। একই সঙ্গে নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্র, সরকার ও নাগরিকদের পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা ও আলাপের ভিত্তিতেই কাঙ্ক্ষিত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা।
অনুষ্ঠানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের পরিচালনায় বিভিন্ন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় প্রতিনিধি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।