ইসলামি আলোচক ও সংগীতশিল্পী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে কথা বলে অনুতপ্ত হয়েছেন তার বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ। নিজের অতিরিক্ত রাগ এবং কিছু মানুষের প্ররোচনায় পড়ে ছেলের বিরুদ্ধে কথা বলা ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। এ ঘটনায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ছেলের ভবিষ্যৎ সাফল্য ও উন্নতি কামনা করেছেন। ভবিষ্যতে আর কখনো ছেলের বিরুদ্ধে কথা বলবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে বাবাকে পাশে নিয়ে একটি দীর্ঘ ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন তাশরীফ। এতে নিজের ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করতে দেখা যায় মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহকে।
ভিডিওতে তিনি বলেন, রাগের বশে এবং অন্যদের প্ররোচনায় পড়ে তিনি ভুল করেছেন। দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, অতিরিক্ত রাগের কারণেই পরিস্থিতি এত দূর গড়িয়েছে। ভিডিওতে এসে কথা না বললে বিষয়টি এত বড় হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিছু মানুষ তাকে প্রলোভিত করেছিলেন উল্লেখ করলেও তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
হেদায়েতুল্লাহ আরও বলেন, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন, কিন্তু তিনি নিজে ধৈর্য ধরতে পারেননি। আল্লাহর নির্দেশ মেনে চললে এবং নিজের অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করলে জীবনে আরও উন্নতি করতে পারতেন বলে মনে করেন তিনি। কিছু মানুষের প্ররোচনায় ভিডিওতে এসে বড় অন্যায় করেছেন বলেও স্বীকার করেন।
ছেলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আল্লাহ তাকে এমন এক সন্তান দিয়েছেন, যার চেহারা, কণ্ঠ, কথা বলা ও আচার-আচরণে বিশেষ গুণ রয়েছে। কিন্তু তিনি ছেলের মূল্য বুঝতে পারেননি। এ জন্য নিজের ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেন তিনি।
তাশরীফের বাবা জানান, ছেলেকে নিয়ে তার স্ত্রী তাকে বুঝিয়েছেন। স্ত্রী তাকে বলেছেন, ছেলে এখন পাশে না থাকলেও পাঁচ বছর পর কোনো বিপদে পড়লে বাবার পাশে দাঁড়াবে। স্ত্রীর এ কথা শুনে নিজের ভুল উপলব্ধি করেন তিনি। এরপর ছেলের অর্থসম্পদের চেয়ে তার ভবিষ্যৎ ও সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ভিডিওতে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, তিনি দোয়া করেন, তার ছেলে যেন আরও বড় হয় এবং জীবনে উন্নতি করে। আল্লাহর দেওয়া নেক সন্তান থাকা সত্ত্বেও ভুল পথে পরিচালিত হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেন তিনি। ভবিষ্যতে যেন আর কখনো এমন কিছু না করেন, সে জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্যও চান।
একই ভিডিওতে তাশরীফ বলেন, পরিবারের রাগ-অভিমান ও মনোমালিন্য নিয়ে অনেকে বড় ইস্যু তৈরি করেছেন। তবে তারা বিষয়গুলো পারিবারিকভাবেই সমাধান করতে চান। তার বাবা স্বেচ্ছায় তার কাছে এসেছেন এবং তিনিও বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানান তাশরীফ।
তিনি বলেন, পরিবারে রাগ-অভিমান যেমন থাকে, তেমনি থাকে আদর-ভালোবাসাও। অতীতের ঘটনা পেছনে ফেলে তারা পরস্পরের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতে চান। বাবার প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে অপপ্রচার না ছড়ানোর আহ্বান জানান।
তাশরীফ আরও বলেন, আল্লাহর ইবাদতের পর বাবা-মায়ের সেবা করা সন্তানের দায়িত্ব। আর্থিক, শারীরিক ও সামাজিকভাবে যেভাবে সম্ভব, তিনি বাবা-মায়ের পাশে থাকতে চান। পরিবারের বিরোধ ও মনোমালিন্য পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
গত কোরবানির ঈদের সময় পারিবারিক বিরোধ ও মনোমালিন্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তাশরীফ। তিনি জানান, এখন থেকে মাসিক নির্দিষ্ট অঙ্কের হিসাব করে নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী বাবাকে আর্থিক সহযোগিতা করতে চান। প্রয়োজন ১০ হাজার টাকা হোক কিংবা ১০ লাখ টাকা—সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকতে চান তিনি।
পারিবারিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে বাবা-ছেলে একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চান বলে ভিডিওবার্তায় জানান তাশরীফ। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্পর্ক আরও সুন্দর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন দুজনই।