Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / ঢাকা বিভাগ / সারাদেশ / ঢাকা / ‘আমি ফুললি স্ট্রং’ আদালতে স্বজনকে দ্বীপ - Chief TV

‘আমি ফুললি স্ট্রং’ আদালতে স্বজনকে দ্বীপ - Chief TV

2026-10-31  ডেস্ক রিপোর্ট  32 views
‘আমি ফুললি স্ট্রং’ আদালতে স্বজনকে দ্বীপ - Chief TV

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়ার সময় নিজেকে ‘ফুললি স্ট্রং’ বলে দাবি করেন তিনি।

দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে আদালতে হাজির করার সময় দীপের কথোপকথনের একটি ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, হলুদ টি-শার্টের ওপর বুলেটপ্রুফ ভেস্ট, মাথায় হেলমেট এবং হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় তাঁকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে।

আদালতের কার্যক্রম শেষে কড়া নিরাপত্তায় দীপকে এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় বাইরে অপেক্ষায় থাকা তাঁর স্বজনেরা তাঁকে ‘স্ট্রং থাকো’ বলে সাহস দেন। জবাবে দীপ বলেন, ‘আমি ফুললি স্ট্রং।’ এরপর তাঁকে হাজতখানায় নেওয়া হয়। আর কোনো কথা বলেননি তিনি।

এর আগে আদালতে তোলার পর কাঠগড়ায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন দীপ। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপ তাঁকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ।

পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল করার সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানান, নিহত তাহসিফ তাঁর সিনিয়র ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, হত্যাকাণ্ডে দীপের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মামলার তদন্ত এখনো চলমান।

রিমান্ড আবেদনে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও পেছনের রহস্য উদ্‌ঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধার, তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। শুক্রবার রাত ১টা ৫ মিনিটে মামলাটি করা হয়। পরে ওই মামলায় দীপকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।


Share: