দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, তিন থেকে পাঁচটি গরু কিংবা শতাধিক হাঁস-মুরগি রয়েছে—এমন পরিবারও বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকার সার্বিক সহযোগিতা দেবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল গ্রামে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট পরিদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে এ উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের জন্য জেলার পাঁচ উদ্যোক্তাকে সরকারি ঋণ হিসেবে দেড় লাখ টাকা করে মোট সাড়ে সাত লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুলের প্লান্ট থেকে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম চুলায় আগুন জ্বালিয়ে উদ্বোধন করেন আমিনুল হক।
চেক পাওয়া পাঁচ উদ্যোক্তা হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী নিলুফা বেগম, জলঢাকার পশ্চিম গোলমুন্ডার মমিনুর রহমানের স্ত্রী মমতা ইয়াসমিন, ডাউয়াবাড়ির মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সোহরাব হোসেন, খারিজা গোলনার ওলিয়ার রহমানের ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান এবং কালকেউট মীরগঞ্জের মোশফিকুর রহমানের ছেলে বকুল হোসাইন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুবক-যুবতীরা দেশের অন্যতম সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগাতে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগানে কাজ করছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রায় ৮৩টি বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগও সেই কার্যক্রমের অংশ। উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুলের মতো অন্যদেরও আত্মকর্মসংস্থান ও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আমিনুল হক আরও বলেন, বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে জ্বালানি গ্যাসের পাশাপাশি জৈব সার উৎপাদন হচ্ছে। এসব প্লান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে। ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে উঠলে গ্যাস ও সারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায়ও সহায়তা মিলবে। এতে উদ্যোক্তারা নিজেরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জ্বালানি সরবরাহ করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়ন করে খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে দূরে রেখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখানোর সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার।
যুবসমাজকে পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গড়ে তুলতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। এতে তরুণেরা দেশে থেকেই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়েও এ-সংক্রান্ত শিক্ষা কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার এবং উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুল বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিলগির আলম। এ সময় সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম রেজা, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব হায়াত আলী জাফরী, বিএনপির সহসভাপতি এস এম ওবায়দুর রহমানসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং যুব উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সৈয়দপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মতিউর রহমান।