কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত দেশের একমাত্র ভাসমান তেল ডিপো এখন অস্তিত্ব সংকটে। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে হতাশা। সম্ভাবনাময় এই স্থাপনাটি পুনরায় সচল করা গেলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্রহ্মপুত্রের প্রবল স্রোত ও পরিবর্তনশীল গতিপথের কারণে চিলমারী অঞ্চল বহু চর ও বনাঞ্চলে সমৃদ্ধ। নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যকে ঘিরে একসময় বেশ কর্মচঞ্চল ছিল চিলমারীর ভাসমান তেল ডিপো এলাকা।
১৯৮৮ সালে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির ভাসমান তেল ডিপো চালুর পর এলাকায় জ্বালানি সরবরাহকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন শত শত শ্রমিকের পদচারণায় মুখর থাকত ডিপো এলাকা। চিলমারী বন্দরের কাছে রমনা রেলস্টেশন থাকায় অল্প দূরত্বে রেললাইন সম্প্রসারণ করে পার্বতীপুর থেকে মালবাহী ট্রেনে জ্বালানি তেল সরবরাহেরও সম্ভাবনা ছিল।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও নৌপথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ডিপোটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে থাকে। এক পর্যায়ে পদ্মা কোম্পানি তাদের ডিপো সরিয়ে নেয়। পরে ২০১০-১১ সাল থেকে অন্যান্য ডিপোতেও জ্বালানি সরবরাহ কমতে শুরু করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুকনো মৌসুমে ডিজেলের সংকট দেখা দিলে কৃষকদের বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে হয়। এতে সেচনির্ভর কৃষিকাজের ব্যয় বেড়ে যায় এবং কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে চিলমারীর ভাসমান ডিপোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প উৎস থেকে বেশি দামে ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। এতে চিলমারীর কৃষি, ব্যবসা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দেশের একমাত্র ভাসমান তেল ডিপোটির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নৌপথ খনন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে চিলমারীর এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি আবারও উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও কৃষিখাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।