দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজের আবাসিক হলগুলোতে খাবারের নিম্নমান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ব্রয়লার মুরগি, একই ধরনের মাছ, পাতলা ডাল ও সেদ্ধ সবজি পরিবেশনের অভিযোগ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ থেকে অনেকে হলের কক্ষেই রান্না করছেন, আবার কেউ কেউ বাড়তি খরচ করে বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।
ঢাকা কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আটটি আবাসিক হল রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি হলের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। বর্তমানে হলভেদে প্রতি মিলের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস ও শহীদ ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাসে প্রতি মিল ৪০ টাকা, আন্তর্জাতিক, বিজয় চব্বিশ, দক্ষিণ ও পশ্চিম ছাত্রাবাসে ৫০ টাকা এবং দক্ষিণায়ণ ছাত্রাবাসে ৬০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। উত্তর ছাত্রাবাসে মিলের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
উত্তর ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. শাকিব আল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবার জরুরি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা নিম্নমানের খাবার পাচ্ছেন। মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে স্থায়ী মনিটরিং টিম গঠন ও খাদ্যে ভর্তুকির দাবি জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসানও খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার মতে, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী বাজারদরের কারণে সীমিত বাজেটে ডাইনিং পরিচালনা করে মানসম্মত খাবার দেওয়া কঠিন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীরা পুষ্টিকর খাবার পেতে পারেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বাজারদরের ঊর্ধ্বগতিকে দায়ী করছেন ডাইনিং ম্যানেজাররা। উত্তর ছাত্রাবাসের ডাইনিং ম্যানেজার আব্দুল মমিন বলেন, বর্তমানে সবজি, মুরগি ও মাছের উচ্চমূল্যের কারণে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে মানসম্মত খাবার সরবরাহ করা কঠিন। ডাইনিং ম্যানেজারদের নির্দিষ্ট বেতন নির্ধারণ এবং তদারকি বাড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসের ডাইনিং ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, বাবুর্চি ও কর্মচারীদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া গ্যাস সংযোগ না থাকায় প্রতিদিন কাঠের জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ৮০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এসব খরচের কারণে নির্ধারিত দামে খাবারের মান বাড়ানো কঠিন বলে দাবি করেন তিনি।
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ডাইনিং পরিচালনায় সরকারি বা প্রশাসনিক কোনো ভর্তুকির সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করলে ঢাকা কলেজের পক্ষে খাবারের মান দ্রুত বাড়ানো কঠিন, কারণ নির্দিষ্ট ভর্তুকি দেওয়ার মতো আর্থিক সুযোগ প্রশাসনের নেই।
তবে ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করেন অধ্যক্ষ। তার ভাষ্য, আগে শিক্ষার্থীরাই ডাইনিং ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকতেন। বর্তমানে কর্মচারীদের হাতে পুরো ব্যবস্থাপনা থাকায় বাকিতে খাওয়া ও নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে ডাইনিং ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করা গেলে খাবারের মান ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।