বগুড়ার শেরপুরে গাছ কেটে পরিযায়ী শামুকখোল পাখির বাসা, ডিম ও ছানা ধ্বংসের ঘটনায় বন বিভাগের করা মামলায় আজাহার আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে আজাহার আলীর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা জলপাই ও পিতরাজ প্রজাতির সাতটি বড় গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এসব গাছে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকশ পরিযায়ী শামুকখোল পাখি বাসা তৈরি করে বসবাস করছিল। গাছ কাটার পর পাখির বাসাগুলো মাটিতে পড়ে যায়। এতে বিপুলসংখ্যক ডিম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য পাখির ছানা মারা যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বন বিভাগের শেরপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন পারভেজ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে শেরপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পর অভিযুক্ত আজাহার আলীকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১২ আগস্ট) রামনগর গ্রামে আজাহার আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি বাড়ির দেয়াল টপকে পাশের জঙ্গলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে জঙ্গল থেকে তাকে আটক করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন বলেন, তদন্তে গাছ কেটে পাখির বাসা ও ডিম নষ্ট করার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থা’র সভাপতি সোহাগ রায় জানান, রামনগর গ্রামে ২০১৪ সাল থেকে পরিযায়ী শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসবাস করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে পাখিদের বিচরণ ও প্রজননের কারণে এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে ‘পাখি কলোনি’ নামে পরিচিত।
তিনি বলেন, গত ৮ আগস্ট গাছ কাটার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পরে বন বিভাগ ও প্রশাসন ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত বন্য ও পরিযায়ী পাখি হত্যা বা নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে।