ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকচালক মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, ফেরি বন্ধ থাকায় প্রায় ১৫টি ট্রাক ফিরে গেছে। তিনিও ঘাটে এসে ফেরি চলাচল বন্ধের বিষয়টি জানতে পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ শেরপুর জেলা সদর থেকে ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর হয়ে রাংটিয়া পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এক লেনের সড়ক নির্মাণ করে। এর মধ্যে ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক এখনো এক লেনেরই রয়ে গেছে। অথচ সড়কের দুই পাশে সওজের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে।
লাঠিতে ভর দিয়ে কাদামাখা রাস্তা পার হচ্ছেন এক বৃদ্ধ। একটু এগোতেই কাদায় আটকে থাকা ভ্যান। যাত্রীদের নামিয়ে কয়েকজন মিলে সেটি ঠেলে তোলার চেষ্টা করছেন। কোথাও আবার খানাখন্দ এড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে মোটরসাইকেল। বৃষ্টি বাড়লেই এমন দৃশ্য যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে ওঠে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভোরের পাখি চর এলাকায় নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরও ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দলবদ্ধ এসব কুকুর মাঝেমধ্যে পথচারীদের তাড়া করে। এতে শিশুদের পাশাপাশি নারী ও বয়স্করাও আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছেন। বাসিন্দা আলমিনা উর্মি বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সময় সবসময় উদ্বেগে থাকতে হয়। অনেক সময় নিজেকেই তাদের রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে হয়। বাড়ির সামনেও প্রায়ই দলবদ্ধ কুকুর ঘোরাফেরা করে বলে জানান তিনি।
গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শেষ সীমানায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারের অবহেলা ও কাজের ধীরগতির কারণে নির্মাণকাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই রাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাত ১০ জুলাই দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ সময়ে জেলায় রেকর্ড পরিমাণ ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ।
টানা বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার নালকাটা-শুকনাছড়ি সড়কের একটি বড় অংশ শুকনাছড়ি ছড়ার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, হঠাৎ করে সকালে সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। আমরা এপার থেকে ওপারে যেতে পারছি না যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। দ্রুত মেরামত করা না হলে আমাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নিম্নাঞ্চল হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ নগরবাসীকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি অনুদান ও প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই রাস্তাটি হঠাৎ করে ধ্বংস করে দেওয়ায় চরম ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। রাস্তা কেটে ফেলার কারণে বর্তমানে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ জমির আইল দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছেন, যার ফলে এলাকায় তীব্র জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও কুড়িগ্রামের চিলমারী অংশে ‘মওলানা ভাসানী সেতুর’ সংযোগ সড়কের উন্নয়নকাজ এখনও শেষ হয়নি। কাজের চরম ধীরগতি ও সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে সদ্যনির্মিত ৫ দশমিক ২৩ কিলোমিটার সড়কের দুপাশে প্রায় ১০০টি ছোট-বড় গর্ত ও খাদের সৃষ্টি হয়েছে।