দেশের দরিদ্রতম জেলা হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রামে একসময় নিয়মিত চলত চারটি লোকাল ট্রেন। ভোর, সকাল, দুপুর ও রাতে চলাচল করা এসব ট্রেনের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ সহজে লালমনিরহাট, পার্বতীপুর, চিলাহাটি ও সান্তাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। তবে সময়ের সঙ্গে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে এসব ট্রেন। এতে জেলার মানুষের যাতায়াত যেমন কঠিন হয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় অর্থনীতিও।
একসময় চিলমারী বন্দরকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রেল যোগাযোগের। ট্রেনের মাধ্যমে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন সহজ ও তুলনামূলক কম খরচে করা যেত। কিন্তু রেললাইন তুলে ফেলা এবং বিভিন্ন স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সুবিধা এখন আর নেই। পুরান কুড়িগ্রাম, টগরাইহাট ও বালাবাড়িহাটের মতো স্টেশনও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ।
মালবাহী ট্রেন চলাচলের লাইনও অনেক জায়গায় তুলে ফেলা হয়েছে। ফলে রেলকেন্দ্রিক পুরোনো গোডাউন ও অবকাঠামোগুলো ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে পড়ছে। একসময় ট্রেনে যে পণ্য পরিবহন তুলনামূলক কম খরচে করা যেত, বর্তমানে একই পণ্য সড়কপথে ট্রাকে পরিবহন করতে গিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অনেক বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সমস্যায় পড়ছেন জেলার কৃষকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লোকাল ট্রেন চালুর দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। রেলের পক্ষ থেকে লোকোমোটিভ ও লোকোমাস্টারের সংকট কাটিয়ে উঠলে লোকাল ট্রেন চালুর কথা বলা হলেও কয়েক দশকেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। এর মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী ও ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ন্যায্য বাজার ও পরিবহন সুবিধা না পেয়ে অনেক কৃষককে শহরমুখী হতে হচ্ছে।
লোকাল ট্রেন চালু থাকাকালে জেলার চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ কম খরচে কর্মস্থলে যাতায়াত করতে পারতেন। গ্রামে পরিবার রেখে শহরে কাজ করাও তুলনামূলক সহজ ছিল। বর্তমানে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস চালু হলেও স্থানীয়দের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রয়োজন মেটাতে তা যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি রেল অবকাঠামোর সংস্কারেও ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে।
কুড়িগ্রামের মানুষের দাবি, জেলার উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি সচল রাখতে সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় আন্দোলনকারীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে দ্রুত লোকাল ও মালবাহী ট্রেন চালু করা গেলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। এখন কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় কুড়িগ্রামের মানুষ।