Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / ঢাকা বিভাগ / সারাদেশ / ঢাকা / তাহসিফের মৃত্যু: ছয় প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার - Chief TV

তাহসিফের মৃত্যু: ছয় প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার - Chief TV

2026-10-29  ডেস্ক রিপোর্ট  38 views
তাহসিফের মৃত্যু: ছয় প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার - Chief TV

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কাটেনি রহস্য। বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর রাজধানীর উপকণ্ঠে তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর মরদেহ। পরিবারের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের স্থান রাজাবাড়ি ঘাট এলাকায় কখনো যাননি তাহসিফ। বাসা থেকে বের হওয়ার পর শেষ কয়েক ঘণ্টায় তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল জানান, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের এক বন্ধু ও জুনিয়র তাঁকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। মাকে জানিয়ে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি তিনি। পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে পাঠানো একটি বার্তায় তাহসিফ লেখেন, ‘আম্মু, আমি আসছি।’ পরিবারের সঙ্গে সেটিই ছিল তাঁর শেষ যোগাযোগ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) হেলাল জানান, ঘটনার দিন প্রায় পুরো সময় মায়ের সঙ্গে ছিলেন তাহসিফ। মা-বাবার জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন। সন্ধ্যার পর দ্বীপ নিচ থেকে ডাকলে মাকে জানিয়ে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর আর তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ছেলেকে খুঁজতে বুধবার দুপুরে তুরাগ থানায় গিয়েছিলেন বলে জানান হেলাল। তিনি বলেন, পুলিশ তখন তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল। তবে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন করে নদীতে মরদেহ পাওয়ার খবর জানান।

মরদেহ উদ্ধারের স্থান নিয়ে তাহসিফের বাবা বলেন, রাজাবাড়ির ঘাটে যেতে আটিপাড়া হয়ে যেতে হয়। তাঁর দাবি, ওই এলাকায় কখনো যাননি তাঁর ছেলে। তবে কে বা কারা তাঁর ছেলের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।

তাহসিফ কোনো হুমকি পেয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে তাঁর বাবা জানান, এ বিষয়ে পরিবারকে কিছু বলেননি তিনি। তবে একবার নিজের কিছুটা আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।

বিমানবাহিনী থেকে তাহসিফের অব্যাহতির সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাহসিফের বাবা বলেন, এ বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে শুধু শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

তাহসিফের বিরুদ্ধে ওই ভিডিও ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি। গত ২১ জুলাই ‘স্পিক উইথ রশিদ’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত পডকাস্টে তাহসিফ অভিযোগটিকে ‘প্রমাণহীন অভিযোগ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তবে ৫ আগস্টের আগে ও পরে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা প্রকাশ করতে পারবেন না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে, তাহসিফের বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেওয়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কে এস এম ইনতিসার ইনজামাম ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ভিডিও ফাঁসের ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ভিডিওসংক্রান্ত ঘটনার সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উত্তরখান থানার রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি কীভাবে নদীতে পৌঁছালেন, নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


Share: