সন্তান জন্মের পর নিজের গর্ভফুল বা প্লাসেন্টা গ্রহণের প্রবণতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলোচনায় এসেছে। কেউ কেউ দাবি করেন, এটি প্রসব-পরবর্তী দুর্বলতা কমানো, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা, বুকের দুধ বাড়ানো কিংবা ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সহায়ক। তবে এসব দাবির পক্ষে এখনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাসেন্টা মূলত গর্ভাবস্থায় মা ও গর্ভের শিশুর মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। মায়ের শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান আম্বেলিক্যাল কর্ডের মাধ্যমে শিশুর কাছে পৌঁছায় এবং শিশুর বর্জ্য উপাদানও এর মাধ্যমে মায়ের শরীরে ফিরে যায়।
এ বিষয়ে জেনারেল ফিজিশিয়ান, মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও মা-শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ আল লাইস বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্লাসেন্টা খাওয়ার কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। এটি মূলত গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর মধ্যে প্রয়োজনীয় আদান-প্রদানের একটি অঙ্গ।
তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রয়োজনে প্লাসেন্টা ব্যবহার হতে পারে, তবে তা অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হয়। ডোনারের অনুমতি, সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে বাজারে ‘প্লাসেন্টা এক্সট্র্যাক্ট’ নামে বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য পাওয়া যায়। তবে এসব পণ্যের অনেকগুলোতেই মানুষের নয়, বরং ভেড়া বা অন্য প্রাণীর প্লাসেন্টা থেকে সংগৃহীত উপাদান ব্যবহার করা হয়। আবার কিছু পণ্যে শুধু বিপণনের কৌশল হিসেবেও ‘প্লাসেন্টা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।
ইতিহাসেও সৌন্দর্য ধরে রাখার নানা অদ্ভুত পদ্ধতির কথা শোনা যায়। এর মধ্যে হাঙ্গেরীয় অভিজাত নারী এলিজাবেথ ব্যাথরিকে ঘিরে নানা কিংবদন্তি রয়েছে। তবে এসব ঘটনার অনেকটাই ঐতিহাসিক বিতর্ক ও লোককাহিনির অংশ, যার সবকিছুর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
চিকিৎসকদের মতে, শরীর ও সৌন্দর্য নিয়ে প্রচলিত নানা দাবির ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক তথ্য যাচাই করা জরুরি। শুধু প্রচারণা বা লোকবিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।