চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন নামে ওই আসামি। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য, মামলার বাদীসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ মসজিদ ঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার মহিউদ্দিন উত্তর করলডেঙ্গা শিকদার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে আবদুল মান্নান নামে এক ব্যক্তি সিআর মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মামলার বাদীও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরানোর পর তিনি পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে এক পুলিশ সদস্যকে আঁচড় ও কামড় দিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যান তিনি।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মহিউদ্দিনকে আবারও গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই আবদুল হালিম (৪৮), এএসআই মাসুম বিল্লাহ (৩৫) ও কনস্টেবল হাসানুজ্জামান (৩২)। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন।
এ ছাড়া মামলার বাদী আবদুল মান্নান (৫৫) ও মোক্তার হোসেন (৪০) আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মহিউদ্দিনের আত্মীয় ও চরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ জেবল হোসাইনকে (২৩) আটক করেছে পুলিশ।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গেলে তিনি পুলিশ সদস্যকে আঁচড় ও কামড় দেন। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেলেও পরে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি আরও জানান, মূল মামলার আসামি না হলেও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রাম পুলিশ জেবল হোসাইনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।