ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর ত্যাগের বিনিময়েই দেশের মানুষ আজ মুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশ ও জাতির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারীদের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিগত স্বৈরাচার আমলে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী মানুষদের কারণেই আজ বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত। তারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখে দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে তা বাস্তবায়ন করবে।
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার সবসময় থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে শহীদ ও গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় অর্জনের পথে যারা জীবন দিয়েছেন, নিখোঁজ হয়েছেন কিংবা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের ত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
তবে বাস্তবতার কারণে সব প্রত্যাশা সময়মতো পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকার তার লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে আসবে না। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নির্যাতিত পরিবারগুলোর সহযোগিতা ও সমর্থনকে সরকারের শক্তির উৎস হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে—বিষয়টি শুধু এমন নয়; বরং এসব পরিবারের সমর্থন ও সহযোগিতাই সরকারকে পূর্ণ উদ্যোগে কাজ করার শক্তি ও অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ যতদিন বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রাখবে, ততদিন এসব পরিবারের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করা হবে। রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব গণতান্ত্রিক যোদ্ধার আত্মত্যাগ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার সবসময় আত্মত্যাগকারী পরিবারগুলোর পাশে থাকবে এবং দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাবে।