নীলফামারীর সৈয়দপুরে একই দিনে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অটো রিকশাচালক ও এক কৃষকের টাকা খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পৃথক ঘটনায় অটো রিকশাসহ মোট সাড়ে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে ওই দুই ব্যক্তি সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ও রাতে পৃথকভাবে এসব ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার দুজন হলেন সৈয়দপুর শহরের কাজীপাড়া এলাকার অটো রিকশাচালক সামসুল হক (৪৫) এবং ডোমারের জোরাবাড়ি ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম (৫০)।
সামসুল হকের স্ত্রী আক্তারা বেগম জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে এক রিকশাচালক তার স্বামীকে অচেতন অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে আসেন। ওই রিকশাচালক জানান, সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন সামসুল। পরে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা চেতনানাশক মেশানো খাবার খাইয়ে তার অটো রিকশা ও সঙ্গে থাকা ১১ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে কৃষক নজরুল ইসলাম বুধবার জমি সংক্রান্ত একটি মামলার বিষয়ে নীলফামারী জেলা জজ আদালতে এসেছিলেন। তবে দিনের শেষে তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
নজরুল ইসলামের মেয়ে রুমি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন তার বাবা সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরে সাংবাদিক জাকির হোসেনের সহযোগিতায় হাসপাতালে গিয়ে বাবাকে খুঁজে পান তারা।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুল হুদা বলেন, দুজনকেই চেতনানাশক কোনো দ্রব্য মেশানো খাবার খাওয়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছেন। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, অটোচালক ও কৃষকের টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন তারা। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহে সৈয়দপুরে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা বেড়েছে। চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া, রেললাইনের পাশে হামলা এবং কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।